ভাবসম্প্রসারণ — দ্বার বন্ধ করে… Posted on October 16, 2022October 16, 2022 দ্বার বন্ধ করে দিয়ে ভ্রমটাকে রুখি সত্য বলে, আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি মূলভাব বিবাচন ক্ষতিকর কিছু ঠেকানোর জন্য হলে, তা উপকারী সব উপকরণকেও স্তব্ধ করে দেয়। সম্প্রসারিত ভাব রবীন্দ্রনাথের “কণিকা” কাব্যগ্রন্থের একটি ছোট্ট সংযোজন “একই পথ” শিরোনামের এ দু’লাইন – দ্বার বন্ধ করে দিয়ে ভ্রমটাকে রুখি/ সত্য বলে, আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি। সচরাচর এই পংক্তিটিকে জনজীবনে ভুল ও সঠিকের প্রসঙ্গে ব্যবহার করা হয়, তবে এর মূলভাব আদতে বিবাচনের প্রসঙ্গে। এর একটি অর্থ ধরা হয় আমাদের জীবনে আমরা ভুলের ভয়ে অনেক কাজ থেকে দূরে থাকি, যা আমাদের ব্যক্তি-উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে। কারণ, ভুলের ভয়ে কিছুই করা না হলে সঠিক গুণাবলীও অর্জন সম্ভব নয়। পানিতে নেমেই শিখতে হয় সাঁতার। সলিল সমাধির আতঙ্ক থেকে যদি কেউ পানিতে না নামে তাতে করে জলমগ্ন-মৃত্যু হয়তো ঠেকানো গেল, কিন্তু সাঁতার শেখা তার দ্বারা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। এই অর্থটি এখানে আলোচ্য পংক্তিটির প্রতি সুবিচার করতে পারে না। বরং বিবাচন-প্রসঙ্গই এর প্রকৃত অভিপ্রায় বলে ধারণা করা উত্তম। আজকের যুগে বিবাচন আমাদের সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ায় এই উক্তিটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। বিদ্যালয়ের নীতিমালা থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র – সবখানেই বিবাচনের হিড়িক লক্ষণীয়। ইংরেজি পরিভাষায় একে “সেন্সরশিপ” বলা হয়। কোন কর্মটি সঙ্গত আর কোনটি অনুচিত তার সীমারেখা নির্ধারণ করাই বিবাচনের কর্ম; যা আপাতদৃষ্টে বিজ্ঞতাপূর্ণ একটি পদক্ষেপ মনে হলেও এর দোষাবহ দিকটিই অধিক প্রকট। আজকের যুগে রাজনৈতিক যথার্থতা বজায় রাখার একটি চর্চা শুরু হয়েছে, যা আপাতদৃষ্টে চমৎকার। রাজনৈতিক যথার্থতা বজায় রাখতে সংখ্যালঘুদের প্রতি অন্যায্যতা দেখানো থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রে শালিক পাখিকে খাঁচাবদ্ধ দেখানো যাবে কি না তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তো বটেই, বাস্তবিকই আদালতে গিয়ে মামলা ঠুকে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ যেন দ্বার রুদ্ধ করে ভুল কিছু না দেখাবার জন্য চাপপ্রয়োগের মহড়া! এর উপকার থেকে বিনাশসাধক দিকটিই বরঞ্চ বেশি ফুটে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। শালিক পাখিকে চলচ্চিত্রে না দেখাবার যে রুদ্ধতা, তা সেখানেই স্তিমিত হবার সম্ভাবনা নেই এবং ইতিহাস এমনটাই বলে থাকে। দ্বার বন্ধ করা শুরু হলে সমাজের প্রতিটি জাতি-গোষ্ঠী-ই তাদের নিজস্ব দ্বার কাঁখে করে উপস্থিত হন এবং মহাসমারোহে সেই দ্বারগুলো বন্ধ করতে শুরু করেন। কাজেই যে দরজাটি প্রথমে বন্ধ করা হয়েছিল স্রেফ নারীদের প্রতি সহিংসতা কমাবার জন্য, তা দিনশেষে নারীর সহিংসতা প্রতিরোধে অত্যন্ত শক্তিশালী লেখা কিংবা চলচ্চিত্রকেও স্তব্ধ করে দেবার জন্য ব্যবহার করা হয়। আরেকটি সামঞ্জস্যপূর্ণ উদাহরণ– ধর্ম নিয়ে কটুক্তি না করবার আইনটা মূলতঃ সংখ্যালঘুদের জন্য প্রবর্তন করা হয়েছিল। কারণ, একটি দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সামাজিকভাবে যাচ্ছেতাই আচরণ করার প্রবণতা ইতিহাসে সব সময় ছিল। সে মানবধর্মেরই অঙ্গ। পশ্চিমাবিশ্বে ইহুদি জাতিটিকে এর শিকার হতে হয়েছে এবং ধর্ম নিয়ে কটুক্তি না করার আইন বা ধারণাটি আধুনিক যুগে ইহুদিদের রক্ষা করার জন্য চালু হয়। অথচ কিছু বছর যেতে না যেতেই দেখা গেল যে দেশে যে ধর্মের লোক বেশি শক্তিশালী তারা নিজেদের স্বার্থে সেই আইন কাজে লাগিয়ে সংখ্যালঘুদের জীবন আরও দুর্বিসহ করে তুলছে! দ্বার বন্ধ করা হয়েছিল ভ্রমটিকে রোখার জন্য, কিন্তু এতে করে আদপে সত্যের পথ চিরতরে বন্ধ করা হয়েছে। অত্যাধুনিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোয় এজন্য মহাপরিচালক কিংবা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ঘর থেকে দরজা তুলে দেবার একটি প্রচলন শুরু হয়েছে। এই মানসিকতার সাথে আমাদের পংক্তিটির সংযোগ সুস্পষ্ট। পূর্বে মহাপরিচালকের দরজায় সবচেয়ে শক্তিশালী দরজা রাখা হতো, যেন যেন-তেন লোক তার ঘরে যে কোন সময় ঢুকে পড়তে না পারে। মহাপরিচালকটির একটি (অধিকাংশ সময়ই মাথা ঘুরিয়ে দেবার মতো সুন্দরী) ব্যক্তিগত সহকারী থাকতো, যাকে টেলিফোন করে সাক্ষাতের অনুমতি নেয়া ও সময় ঠিক করা হতো, তবেই কেউ তার সাথে দেখা করতে পারতেন। এতে করে বাজে আলাপ করার লোককে ঠেকানো গেছিল বটে, তবে উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে দেখা করতে আসার লোকও মহাপরিচালকের সাথে যখন-তখন দেখা করতে পারতেন না। এই সমস্যাটি সমাধান করতে তারা ‘ওপেন ডোর পলিসি’ বলে একটি নীতিমালা চালু করেছিল, যেখানে পরিচালক দরজা খোলা রাখলে যে কোন সময় কর্মীরা ঢুকে পড়তে পারবেন। এটিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে ‘নো-ডোর পলিসি’ বিখ্যাত কোম্পানিগুলো নিচ্ছেন, যেখানে মহাপরিচালকের ঘরে কোন দরজাই থাকবে না। বিবাচনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সম্ভাবনাও তারা এভাবে ঠেকিয়ে দিচ্ছে। আমাদের জীবনে, সমাজে, এবং সৃজনশীল যে কোন ক্ষেত্রে বিবাচন দূরীভূতকরণের জন্য অনেকগুলো বছর আগে এজন্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জোর দিয়েছিলেন এই পংক্তির মাধ্যমে। কেননা শুদ্ধ ও ভুলের কোন সঠিক পরিমাপযন্ত্র নেই। কোন একটা কিছুকে শুদ্ধ বা ভুল হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে জীবন থেকে সরিয়ে দিলে কর্ম দিয়ে প্রকৃত পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা ফিকে হয়। কারণ, জীবন কোন সাদা-কালো গল্প নয়, এর পুরোটিই ধূসর। মন্তব্য ভুল ও শুদ্ধ – উভয়কেই সমান সুযোগ দেয়াই জগতের জন্য শুদ্ধকে কাজে লাগাবার একমাত্র পথ, এজন্য সকল প্রকার ও সকল যুক্তির বিবাচনকে পরিপূর্ণভাবে উন্মুলিত করতে হবে। নন-ফিকশন ভাবসম্প্রসারণ
ধৈর্য Posted on May 8, 2023 মনে রাখবেন, ধৈর্যধারণ আমাদের নানা সময় করতে হয়। সামাজিক পরিবেশে মারামারি না করার জন্য বা ক্রোধ সামলাতে ধৈর্যধারণ করতে হয়, প্রেমিকার সাথে ঝগড়া না করার জন্য তথা বিরক্তি ঠেকাতে ধৈর্যধারণ করতে হয়, পড়াশোনা করার জন্য তথা বিবমিষা আসার মতো বিষয় পড়তে গিয়ে ধৈর্যধারণ করতে হয়, ব্যর্থতার পর হতাশা ঠেকাতে ধৈর্যধারণ করতে হয় – Read More
নন-ফিকশন The Son of Bangladesh: KP’s Voice for the Marginalized Posted on November 9, 2025December 13, 2025 In his latest, most daring creative endeavor, Kishor Pasha Imon (KP Imon) transcends the boundaries of his acclaimed work in crime fiction to deliver a powerful socio-political and musical statement: “The Son of Bangladesh.” Read More
আমেরিকান বইপড়ুয়ারা Posted on March 9, 2023 জনের বন্ধুর কাছে জানলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চেনে। তার সাথে তাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল আরেকজন বিখ্যাত ক্যারিবিয়ান লেখক। গীতাঞ্জলি কিনে রেখেছে। নামটা বললো অবশ্য ‘গিতালি?’ ঠিক করে দিলাম, “গীতাঞ্জলি। তবে কাছাকাছি গেছ। জন কিটস অনুবাদে সহায়তা করেছিলেন।” সে চেনে সত্যজিত রায়কেও। ফেলুদার ব্যাপারে জানে। ফেলুদাকে মনে করতে পারছিল, কিন্তু সত্যজিতকে না। গুগল করে দেখাতেই হাততালি দিয়ে উঠলো। অরুন্ধতী রায়কেও চেয়ে সে। আমাকে একটা কাগজে তার নাম লিখে দেখানোর চেষ্টা করছিল। গুগল করে বের করে দিলাম। দ্য গড অফ স্মল থিংস। Read More