আন্ডারএইজের বই পড়া Posted on February 5, 2024February 5, 2024 এক গ্রুপে একটা পোস্ট দেখলাম – ১৭ বছরের বাচ্চার কেমন বই পড়া উচিত তা নিয়ে। আমার উত্তর হচ্ছে – ১৭ হলে সবই পড়তে পারবে। আমি সাধারণত ১৪+দের প্রাপ্তবয়স্কদের বই পড়ায় উৎসাহ দেই। ক্ষেত্রবিশেষে ১৩+ হতে পারে। তেড়ে আসার আগে একটু ব্যাখ্যা করতে দিন। কেউ কেউ লিখেছেন ১৮+ বাদে আর সব পড়তে পারবে। আমাকে এখন বলুন তো, একটা মানুষের বয়স যেদিন ১৭ বছর ৩৬৪তম দিন, সেদিন সে প্রাপ্তবয়স্কদের বই পড়তে পারবে না, আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সে রীতিমতো সাবালক হয়ে উঠবে? বিষয়টা কি এভাবে কাজ করে? অনেকে মনে করতে পারেন প্রচলিত যা আছে তার উলটো বলতে পারলেই হল আমার। তবে প্রচলিত আইন অনুসারে ১৮ কিংবা ২১ বছরের আগে সিগারেট কিংবা অ্যালকোহল না বিক্রি করার ব্যাপারে আমার সহমত আছে। তবে বই পড়ার ব্যাপারে আমি একমত নই বয়সসীমা নির্ধারণের। ৯-১০ বছরের বাচ্চার ক্ষেত্রেও যে আমার ১৮+ বই পাঠে আপত্তি তা এই কারণে নয় যে “বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাবে।” বরং ১৮+ বই বা অতীব জ্ঞানগর্ভ বই থেকে সে বেচারা কনফিউজ হয়ে যেতে পারে, বই পড়ে খতম করতে না করতেই দেখা যাবে বই পড়ার ভূত মাথা থেকে বেচারার একেবারেই বের হয়ে গেছে। কিন্তু যারা একটু-আধটু বইপত্র পড়ে, তাদের প্রত্যেকের কাছে যদি আমি জিজ্ঞাসা করি যখন আপনার বয়স চৌদ্দ পনের ছিল তখন করেছেনটা কি? এই জেনারেশনের বিশাল একটা জনগোষ্ঠী উত্তর দেবে তখন আমরা চুরি করে মাসুদ রানা পড়তাম। মাসুদ রানা কি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য লেখা বই? অনেকে বলবেন হ্যাঁ। এই প্রাপ্তবয়স্কদের ভেতর কি ১৩-১৪ বছরের ছেলে-মেয়েরা পড়ে? অনেকে বলবেন অবশ্যই না। তাহলে আমাকে দয়া করে বলবেন কি ইরোটিক জনরার বইগুলো কত বছর বয়স থেকে পড়া যাবে? এখন হয়তো বলবেন ১৮র পরে। এবার যদি আমরা যাচাই করতে চাই যে মাসুদ রানা গোত্রের বই চটি বই কি এক জিনিস? আপনি চটি বই এর ক্ষেত্রে আঠারোর নিচে কেউ না পড়ুক বলে থাকতে পারেন তা নিয়ে আমি খুব একটা আপত্তি করব না। কিন্তু এসপিওনাজ, ডিটেকটিভ থ্রিলার অথবা যে ধরনের বইগুলো থেকে মাসুদ রানা অ্যাডাপ্ট করা হয় — এসব বইকে আঠারোর বেশি বয়স না হলে পড়া যাবে না বলাটা একেবারেই গোয়ার্তুমি। ওই বয়সে মানুষ অ্যাডভেঞ্চার পড়বে না তো কি বিশ বছরের ওপরে এসে পড়বে? এখন পর্যন্ত আমি যা যা লিখে থাকি সেগুলো মূলত কলেজে পড়ুয়া বাচ্চাকাচ্চাদের জন্যই। অথচ এইসব বইয়ের ভেতরে প্রাপ্তবয়স্ক আলাপ থাকে। কিন্তু বুড়ো দামড়াদের জন্য আমি একটা বই লিখেছি বলে মনে পড়ে না। সঙ্গত কারণেই যাদের বয়স একটু বেশি হয়েছে তাদের কাছ থেকে নানারকম “ওয়াইজ কমেন্ট” আমাকে মাঝেমধ্যে পেতে হয়। কলেজ পড়ুয়া বাচ্চাকাচ্চাদের কাছ থেকে অভিযোগ কখনো পেয়েছি বলে মনে পড়ে না। কারণ রাইট অডিয়েন্সে ওটা ল্যান্ড করেছে। আমি নিশ্চিত যতখানি অ্যাডাল্ট আলাপ আমার বইয়ে থাকে এটাকে অধিকাংশ জনগণ প্রাপ্তবয়স্কদের বই হিসেবেই যাচাই করবেন। কারণ উনারা এমন একটা মাইন্ডসেট করে নিয়েছেন যে একটু প্রেম–ভালোবাসা থাকলে ওটা আসলে আঠারোর ওপরে যাদের বয়স তাদের পড়ার কথা। আপনাদের কি মনে হয় যাদের বয়স ১৩-১৪, তারা ঘাস খেয়ে ১৩-১৪ বছরের বাচ্চা হয়েছে? দুদু খায়? তারা প্রেম বোঝে, নর-নারীর সম্পর্ক বোঝে। আর এই ধরনের গল্পের বই গুলোতে নর-নারী কিভাবে সম্পর্ক করছে সেটা কখনোই উপজীব্য বিষয় না। কোন একটা বই হয়তো মূল কাহিনী কিভাবে একজন স্পাই তথ্য চুরি করে জীবন বাজি রেখে এক দেশ থেকে আরেক দেশে পালাচ্ছে। তাকে এটা পড়তে দেন। সে বুঝতে পারবে কিভাবে জিওপলিটিক্স কাজ করে, অবশ্যই বাস্তব জিওপলিটিক্স সে বুঝবে না কিন্তু একটা ভেগ আইডিয়া তো পাবে। সে যদি ওই বইটা না পড়তো তাহলে জীবনে বুঝতে পারত না যে পাকিস্তান আর ইন্ডিয়ার মধ্যে গ্যাঞ্জাম লাগলে আমেরিকার সমস্যা কিভাবে হতে পারে। তাকে আপনি ১৩-১৪ বছর বয়সে পড়তে দিবেন কি কিশোর উপন্যাস কেবল? বড়দের টপিকে ঢোকার বয়সই তো টিনেজ বয়েস। নয় দশ বছর বয়সে কেবলমাত্র নিষ্পাপ নির্দোষ অভিযানের গল্প সে পড়বে। যে ধরনের বই আপনারা বড়দের বই মনে করেন, সেসব আসলে টিনেজ থেকে একশ বছরের বৃদ্ধের বই। কারণ এই বইগুলো চটিগল্প না। এই জগতটাতে বাচ্চাকাচ্চাদের ঢুকতে দেন। আপনি নিজেও ঢুকেছিলেন। বিশেষ কোনো ক্ষতি তাতে হয়েছে বলে মনে হয় না। কেপিমত নন-ফিকশন
নন-ফিকশন The Son of Bangladesh: KP’s Voice for the Marginalized Posted on November 9, 2025December 13, 2025 In his latest, most daring creative endeavor, Kishor Pasha Imon (KP Imon) transcends the boundaries of his acclaimed work in crime fiction to deliver a powerful socio-political and musical statement: “The Son of Bangladesh.” Read More
ব্রেইন ড্রেইন, বহুগামিতা, এবং চুদির ভাই কথন Posted on November 12, 2022 এত সুন্দর একটা মেয়ের পায়ে ফোস্কা পরে যাওয়া টাকা দিয়ে কেনা চা কি আপনি খেতে পারবেন? Read More
তাত্ত্বিক আলোচনা ফ্রি-মিক্সিং সমস্যা নয়, ফ্রি-মিক্সিংই সমাধান Posted on September 25, 2023September 25, 2023 ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ মেয়েদের উত্যক্ত করার অভ্যাসটা মূলতঃ গড়েছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আর সমাজ সংস্কার। দেশের আশিভাগ কিশোরের নারী সংক্রান্ত আগ্রহটা থাকে বাড়াবাড়ি পর্যায়ের। অন্য কোনোখানে আপনি এমনটা দেখবেন না। কারণটা সবার চোখের সামনে থাকলেও দেখবেন কেউ তা নিয়ে টু শব্দটাও করছে না। ছেলেদের অনভিজ্ঞতাই এসবকিছুর জন্য দায়ী। ইভ টিজিং, মেয়ে… Read More