দ্য অ্যালি Posted on October 12, 2026 এক কুঁতকুতে চোখে লোকটা আবার তাকায় রিফাতের দিকে, ‘ঠিকই শুনেছেন। জবাই হয়ে গেছিল আমার বন্ধু। এই গলিতেই।’ চারপাশে তাকিয়ে গলিটার বিশেষতঃ খোঁজে রিফাতের চোখদুটো। সাধারণ একটা গলি। দুই পাশে ঘন করে দাঁড়িয়ে আছে বাড়িগুলো। কার্নিশগুলোতে জমে আছে কয়েক দশকের অবহেলার ছাপ। বাড়ি তুলে ফেলার পর তাদের প্রতি আর কোন দায়িত্ব থাকে, বা থাকতে পারে – এরকম চিন্তাই আসেনি নির্ঘাত মালিকদের মাথাতে। ভাড়া হয়ে গেলে, আর ভাড়াটেরা নিয়মিত ভাড়া দিতে থাকলে সেসব নিয়ে আজকের বাড়িওয়ালারা ভাবেও না। তারওপর বছর ঘুরে গেলেই ভাড়া যখন বাড়িয়ে দেওয়া যায় কিছু না করেই – ভাববেই বা কেন? সাধারণ দেখতে এই গলিটাতেই খুন হয়েছে চারজন মানুষ। গত চার বছরে। এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই এই তথ্যটা। কাজেই রিফাত আরও একবার ভাল করে দেখে নেয় গলির ভেতরটা। ‘তাকিয়ে লাভ নেই। কিছু পাবেন না। আর দশটা গলি থেকে এর কোন বিশেষত্ব নেই।’, মুচকি হেসে বলে লোকটা আবারও। তার দিকে তাকায় রিফাত, ‘আপনার নামটা ভুলে গেছি। কি যেন বলেছিলেন?’ একটুও ম্লান হল না লোকটার মুখের হাসি, ‘কই? কোন নাম তো বলি নি আপনাকে। বলছিলাম, আজ রাতের বেলাতে এদিকটা আসবেন না। এলাকা খারাপ।’ দুইপাশে আলতো করে মাথা দোলায় রিফাত, ‘এলাকা তো সারাবছর ভালই থাকে শুনেছি। শুধু বড়দিনের রাতটাতেই -’, থেমে গিয়ে কথাটা উহ্য রাখে ও, ‘আপনার বাসা কি এ গলিতেই?’ খনখনে গলাতে হাসে লোকটা। সন্ধ্যা প্রায় নেমে এসেছে। শেষ বিকেলের রোদ গলির দু’পাশে দাঁড়ানো বাড়িগুলোতে বাঁধা পেয়ে ভেতরে ঢুকে নি। অদ্ভুত এক আলোছায়ার খেলা শুরু হয়ে গেছে গলির ভেতরে। ঢাকার বেশিরভাগ গলির চেহারাই থাকে এরকম, কাজেই দৃশ্যটা রিফাতের কাছে নতুন নয়। তবে এই গোধূলির পরিবেশের সাথে লোকটার হাসি কি অদ্ভুতভাবেই না মিলিয়ে গেছে! মেরুদণ্ডের কাছে শির শির করে ওঠে রিফাতের। পর পর চার বছরে চারটা খুন হয়ে যাওয়া এই গলিতেই সম্ভব। প্রথমবারের মত চিন্তাটা মাথাতে উঁকি দেয় ওর। একেবারে হঠাৎ খেয়াল করে ও, ঝপ করে আঁধার নেমে গেছে গলির ভেতর। প্রতি মিনিটে দ্রুত কমে যাচ্ছে আলো এখানে। অদ্ভুত! কথাটা অচেনা আগন্তুককে বলার জন্য ঘুরে তাকায় রিফাত। থমকে যেতে বাধ্য হল ও সেখানেই। গলির মাঝখানে একা দাঁড়িয়ে আছে ও। চারপাশে কেউ নেই। কর্পূরের মতই যেন উবে গেছে রহস্যময় লোকটা। * নবের কী-হোলে চাবি ঢোকাতে ঢোকাতে পাশের ফ্ল্যাটের দরজার সাথে কুস্তি লড়তে থাকা ভদ্রলোকের দিকে চোখ পড়ে রিফাতের। এলাকার পুরোনো বাসিন্দা। প্রথমদিন এ ফ্ল্যাটটা ভাড়া নেওয়ার সময়ই কথা হয়েছে উনার সাথে। রিটায়ার্ড আর্মি অফিসার। বেশ অমায়িক। এরকম নরম একজন মানুষ কি করে আর্মিতে টিকে গেলেন, তা একটা প্রশ্ন হতে পারত। পৃথিবীর সবকিছুই যে শক্তের ভক্ত আর নরমের যম হয় না, তা উনাকে দেখেই বুঝেছিল রিফাত। এ মুহূর্তে একই মানুষকে দেখে ধারণাটাই পাল্টে যায় ওর। দরজাটা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ভদ্রলোকের সাথে। দুই পা এগিয়ে গিয়ে তা৬কে সাহায্য করে রিফাত। নিজের ভুলটা বুঝতে পেরে হাহাকার করে ওঠেন প্রাক্তন আর্মি অফিসার, ‘ছি ছি, ভুল চাবি দিয়ে ঠিক দরজা খোলার চেষ্টা করছিলাম! বয়েসের সাথে মানুষের কাণ্ডজ্ঞান কিভাবে লোপ পায় দেখুন?’ মুচকি হাসে রিফাত, এই মানুষটা তার থেকে বিশ বছরের বড় হবেন কম করে হলেও। তবুও ‘তুমি’ করে ডাকতে নারাজ। রিফাত এ নিয়ে সেদিন কয়েকবার জোরাজুরি করে হাল ছেড়ে দিয়েছে। শুধু বলে, ‘ও কিছু না। এরকম কাণ্ড মেস-জীবনে বেশ কয়েকবার আমিও ঘটিয়েছি।’ চোখ টিপে দিলেন ভদ্রলোক, ‘বিশেষ করে যেদিন তরলের সাথে পরিবেশটা একটু তরল হয়ে আসত – সেসব দিন। কি বলেন?’ হাসিটা শুধু আরেকটু প্রসারিত হয় রিফাতের, যার অর্থ হতে পারে – ‘হেহে’! রাজীব হোসেনের এখানেই কথা থামিয়ে নিজের ঘরে ঢুকে যাওয়ার কথা। কিন্তু তিনি তা করলেন না। গলা খাদে নামিয়ে একবার বললেন, ‘ভেতরে শুয়ে আছে চার সুন্দরী। আসবেন নাকি?’ চোখ বিস্ফোরিত হয়ে উঠতে যাচ্ছিল রিফাতের, মুহূর্তের মাঝেই বুঝে যায় অবশ্য কথাটার মর্মার্থ। গলাটা খাদে নামিয়ে ফেলে ও নিজেও, ‘সুন্দরীদের নাম জানতে পারি?’ হাল্কা মাথা দোলান ভদ্রলোক, ‘আপনাকে একটা হিন্টস দিতে পারি। আদিওস মাদারফাকার। ব্লু মোটরসাইকেল!’ সামান্য বড় বড় হয়ে না হয়ে এবার পারে না রিফাতের চোখদুটো, ‘মাই গড, বাগালেন কোথা থেকে?’ দরজা খুলে রিফাতকে ঢোকার সুযোগ করে দিলেন ভদ্রলোক, ‘বাইরের অনেক দেশে আমার অনেক বন্ধু আছে। আমার পানাভ্যাসের কথা তাদের জানা আছে।’ “আদিওস মাদারফাকার” হল ককটেলের একটা রেসিপি। হাফ আউন্স ভদকা, হাফ আউন্স জিন, হাফ আউন্স রাম আর হাফ আউন্সের টেকিলা মিশালেই হয়ে গেল। তারপর সেভেন আপের একটা বোতল থেকে কিছু মিশিয়ে নিলেই প্রস্তুত আপনার এ.এম.এফ। একে আদর করে নীল মোটরসাইকেলও ডাকে অনেকে। এ জিনিস একবারই চেখে দেখেছিল রিফাত, শেরাটনে। তখনও ওটাকে এ নামেই ডাকা হত। ক্যাম্পাসে এসেছিল যে ডিজে, তার সাথে সুযোগ বুঝে মেরে দিয়েছিল ও কয়েক শট। ভদ্রলোকের ঘরের ভেতরটা বেশ সাজানো গুছানো। বিপত্নীক তিনি, ছেলে আছে একজনই। সে এদেশে থাকে না। একা মানুষের ঘর নোংরা হয় – ধারণাটা সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছেন এই মানুষ। যেখানে যেটার থাকার কথা সেখানেই আছে সেটা। অ্যাশট্রের বাইরে এক টুকরো ছাইও পড়ে নেই। কালো রঙের হ্যাটটা পর্যন্ত ঝুলছে কোটস্ট্যান্ড থেকে। ‘অবসরের পরের জীবন -’, ফোঁস করে একটা নিশ্বাস ছাড়েন তিনি, ‘বুঝবেন না, কিন্তু এর মাঝে প্যাথেটিক একটা সুর লুকোনো আছে।’ বয়স্ক মানুষটা সারাদিন কথা বলার মত একজন মানুষও পান না খুব সম্ভব। বাড়ি ফেরার পরও কাওকে পান না। প্রথমবারের মত তাঁর জন্য মায়া হয় রিফাতের। মাথা দুলিয়ে সায় দেয় ও, ‘ফ্ল্যাটটা ছেড়ে দিয়ে নিরিবিলি একটা এলাকাতে চলে যেতে পারেন। এ সময়টা শখের অবসর কাটানোর জন্য দারুণ হবে। আমার মনে হয়, এই সময়টাতে মানসিক আলস্যতাই প্রধান শত্রু।’ কিছু না বলে একদৃষ্টে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকেন ভদ্রলোক। তারপর ঘুরে দাঁড়ান রিফাতের দিকে। ‘কিছু মনে করবেন না, আজকে মনে হয় নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্ভব হবে না। আবার একা একা ড্রিংক করতেও ভালো লাগে না। আপনাকে ভাসিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি নিয়ে ডাকতেও ইতস্তত হচ্ছে …’ হেসে ফেলে রিফাত, ‘নিরাপদ দূরত্বে থাকব। তবে ব্লু মোটরসাইকেলের টেস্ট না নিয়ে নড়ছি না আমি।’ রাজীব হোসেনের এই ঘরের জানালা দিয়ে গলিটা দেখা যায়। অদ্ভুত এক আলোতে ডুবে আছে পথটা, একই সাথে আশ্চর্যরকমের অন্ধকার সেখানে। ছায়াতে কেউ নড়ে উঠল কি? রিফাত ঠিক বুঝতে পারে না। ‘ঠিক ওখানে, বুঝলেন?’, সেদিকে ইশারা করেই বলেন ভদ্রলোক, ‘ঠিক ওখানেই মারা গেছিল আমার স্ত্রী।’ খবরটা জানা ছিল না রিফাতের, হতচকিয়ে তাকায় রিটায়ার্ড আর্মি অফিসারের দিকে। নিজের বক্তব্য শেষ করছেন তিনি তখন, ‘ঠিক চার বছর আগে। আজকে আমার ওয়াইফের ডেথডে।’ দুই হাত সরাতে কাচের মৃদু টুং টাং শব্দ শুনতে পেল রিফাত। আসছে বাম দিক থেকে। সেকেন্ডের ভগ্নাংশ পেরিয়ে যেতে বুঝতে পারে, ওটা ছোট গ্লাসটার গড়িয়ে যাওয়ার শব্দ। লাফিয়ে উঠে বসে ও – চারপাশে ফকফকে দিনের আলো। ঠাণ্ডাতে শরীর জমে যাচ্ছে। হাফহাতা টি-শার্ট পরে শুয়ে পড়াটা মোটেও উচিত হয় নি গতকাল। পাশের ঘর থেকে খুটখাট শব্দ হচ্ছে। কিচেনটাও ওদিকে। কাজেই, শব্দের উৎসের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারল না রিফাত। দাঁড়াতে গিয়ে খেয়াল করে, পা হাল্কা টলছে ওর। এ ঘরটা বেশি বড় না। একপাশের টেবিলে কম্পিউটার টেবিল, একটা ফাইল কেবিনেট আছে তার সাথেই। তার ওপর রাখা আছে চৌদ্দ ইঞ্চির ছোট টেলিভিশন বাক্স। ডাবল বেডটা ওর পেছনে। দুই সারি আসবাবের ঠিক মাঝখানে উল্টে পড়েছিল ও। টলোমলো পায়েই পাশের ঘরে এসে এক্স-মিলিটারি বাড়ির মালিককে দেখা গেল। সোফাতে আয়েশ করে বসে গরম কফিতে চুমুক দিচ্ছেন এখন তিনি। রিফাতকে দেখেই স্মিত হাসলেন। ‘উঠে পড়েছেন দেখছি। কফি চলবে? খুব কাজে দেবে এখন এক কাপ কফি।’ মাথা চুলকে জানালার দিকে এগিয়ে যায় রিফাত। একটু ফ্রেশ আলো দরকার ওর। রাজীব হোসেন আবারও বললেন, ‘কিচেনে কফি রাখাই আছে। শুধু চিনিটা মিশিয়ে নেবেন।’ ‘থ্যাংকস।’, বলতে বলতে জানালা খুলে দেয় ও। বাসার সামনের রাস্তাটা এখান থেকে দেখা যাচ্ছে। শত মানুষের ভীর সেখানে। তাদের মাঝ দিয়ে ছোট একটা হাত দেখতে পায় শুধু রিফাত। এখান থেকে তৃতীয় বাসাটার প্রাচীর ঘেঁষে আছে ভীরের কেন্দ্র। ‘নিচে হচ্ছেটা কি?’, কিচেনের দিকে এগিয়ে গিয়ে জানতে চায় ও। ‘যা হয় আর কি। আরেকটা লাশ পড়ে গেছে গতকাল।’, কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে বললেন অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল। যেন তাঁর বাসার সামনে পড়েনি লাশটা। আমেরিকার কোন এক রাজ্যের কাহিনী শোনাচ্ছেন যেন তিনি। ঝট করে তার দিকে ফিরে তাকায় রিফাত। লোকটার স্নায়ু অস্বাভাবিক রকমের ঠাণ্ডা! নির্বিকার ভঙ্গিটা একেবারে পেশাদার ভঙ্গিতে ধরে রেখেছেন তিনি। আসলেই কি মানুষটার স্ত্রী মারা গেছে এখানে? প্রথম ভিকটিম হিসেবে? কাঁধ ঝাঁকিয়ে কিচেনে ঢুকে পড়ে ও। এই মুহূর্তে কফির দরকার আছে। গতকাল আদিওস মাদারফাকারে কাজ হয়ে গেছে। শট নিয়েছে একটু বেশি। একটু দ্রুত। কফি যদি কিছুটা চাঙ্গা করতে পারে! ‘পুলিশের পক্ষ থেকে কারও থাকা উচিত ছিল। কারও ওয়াচ করা উচিত ছিল গলিটা। টাইম আর মার্ডার প্লেস একই রকম থাকছে যখন – খুব সহজে ঠেকানো যেত মার্ডারটা!’, কফি ঢালতে ঢালতে বলে রিফাত। কিছু না বলে চুপচাপ কফিতে চুমুক দিতে থাকেন কর্ণেল ভদ্রলোক। একই সাথে এক হাত চলে গেছে কোটের পকেটে। মার্লবোরোর একটা আনকোরা প্যাকেট বেড়িয়ে আসে সেখান থেকে। আলতো করে একটা স্টিক বের করে ধরিয়ে ফেলেন তিনি। তারপর চোখের ইশারাতে জানতে চান রিফাত চায় কি না। সম্মতি দিতে তার দিকে ছুঁড়ে মারেন প্যাকেট। বাতাসের মাঝে খপ করে ওটা ধরে ফেলে রিফাত। তারপর ধীরে সুস্থে আগুন ধরিয়ে নেয় সিগারেটের গোড়াতে। শান্তভাবে এসে বসে কর্ণেলের অন্যপাশের সোফাতে। ‘ছিল।’, শান্তকণ্ঠে বললেন কর্ণেল। প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকে রিফাত। ‘একজন অপারেটিভ ছিল কাল রাতে ওখানে। এসএস-এর লোক।’ ভ্রু কুঁচকে গেছে রিফাতের, ‘এসএস?’ কাঁধ ঝাঁকালেন কর্ণেল, ‘সিক্রেট সার্ভেইল্যান্স। বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো ছদ্মবেশ এদের এজেন্টরাই ধরতে পারে। গতকাল রাতে আমাদের গলিটাতে তার টোপ হয়ে থাকার কথা ছিল।’ বিভ্রান্ত দেখায় রিফাতকে, ‘তারপরও খুন হয় কি করে?’ বুক ভরে সিগারেটের ধোঁয়া টানলেন কর্ণেল, ‘এসএসের সেই অপারেটিভই এবারের ভিকটিম। ছুরি মেরেছে কিলার। ঠিক আগের মতই।’ চুপচাপ তার দিকে তাকিয়ে থাকে রিফাত। বলে গেলেন কর্ণেল, ‘সবকিছু ঠিক ছিল তার। মৃতদেহের ওপর অযথা কোন আক্রোশ দেখানো হয় নি। শুধু খোয়া গেছে তার পিস্তলটা।’ কফির কাপে চুমুক দেয় রিফাত। তারপর বুকের ভেতর জমে থাকা ধোঁয়াগুলো বের করে দেয়, ‘কাল রাতে আপনি মাতাল হন নি। হয়েছিলেন?’ প্রশ্নটার জবাব দিতে ব্যস্ত হতে দেখা যায় না কর্ণেলকে। বাইরে গাড়ির শব্দ। কফির কাপটা সাবধানে টি-টেবিলে নামিয়ে রেখে উঠে দাঁড়ান তিনি। রিফাতকে প্রশ্ন করলেন, ‘থানার দিকে নিয়ে যাচ্ছে মনে হয় লাশটাকে। ফ্রি লিফট সহ পুলিশ স্টেশনে যেতে চাইলে আসতে পারেন।’ ভদ্রলোকের পেছন পেছন বের হওয়ার সময় রিফাত লক্ষ্য করে রাতের পোশাক কোন ফাঁকে যেন পাল্টে ফেলেছেন তিনি। তিন বয়েস বেশি হবে না ছেলেটার। খুব বেশি হলে চব্বিশ। ফ্যাকাসে মুখটাতে এখন মৃত্যুর চিহ্ন। আঙ্গুলের গোড়া হয়ে আছে নীল। গতরাতের ঠাণ্ডা এর পিছনে ভূমিকা রেখেছে খুব সম্ভব। দেখার মত অংশ এটুকুই। বুক থেকে পেট পর্যন্ত চিড়ে দিয়েছে নির্মম ছুরির ফলা। খানিকটা নাড়িভুঁড়িও বেড়িয়ে পড়েছে সেদিক থেকে। দ্বিতীয় জখমটা বুকের মাঝে। ডাক্তার ভদ্রলোক ওটাকেই প্রথম জখম বলে স্বীকৃতি দিচ্ছেন অবশ্য। চশমার কাঁচ ঘষে পরিষ্কার করলেন তিনি এখন, কর্ণেলের দিকে তাকালেন সরাসরি, ‘তোমার আগ্রহের কারণটা বুঝতে পারছি, রাজীব। কিন্তু এক্ষেত্রে আসলেই আর কিছু বলা সম্ভব না।’ ‘আমি জানি।’, একবার পড়ে থাকা শরীরটাকে দেখলেন অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল রাজীব, ‘আমি এখন তোমার কাছে কিছু চাইছিও না। পোস্ট মর্টেমের পর আমাকে জানাবে কোন অগ্রগতি হলে।’ ‘শিওর।’, মাথা দোলান ডাক্তার শাহাদত। কনফারেন্স রুমটা ফাঁকা। তার মাঝে ঢুকে পড়ে কর্ণেলের দিকে ফিরল রিফাত। ভদ্রলোক আরেকটি সিগারেট ধরাচ্ছেন। ‘সেদিনও ছিল বড়দিনের রাত।’, ধোঁয়া বাতাসে ছুঁড়ে মেরে বললেন তিনি, ‘আমার স্ত্রীর সাথে আমার বয়েসের ডিফারেন্স ছিল। ২৫শে ডিসেম্বর ছিল ওর জন্মদিন। ত্রিশতম জন্মদিন।’ ভদ্রলোক দীর্ঘশ্বাস এড়াচ্ছেন, এ ফাঁকে চট করে বয়েসের হিসেবটা করে ফেলে রিফাত, কম করে হলেও আট বছরের পার্থক্য ছিল স্বামী-স্ত্রীর মাঝে। সামনে বসে থাকা কর্ণেল সাহেবের বয়েস তেতাল্লিশের বেশি হবে না। ‘ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন না কেন তিনি?’, চট করে প্রশ্নটা করে ফেলে রিফাত, ‘আপনি কি অবসর নিয়েছিলেন তখনও?’ দুইপাশে মাথা দোলান কর্ণেল, ‘না। তখনও অবসর নেই নি। আমাদের ডিভোর্স হয়েছিল পাঁচ বছর আগে।’ মাথা দোলায় রিফাত। কর্ণেলের স্ত্রীর বাইরে থাকার কারণটা এখন স্পষ্ট। তবুও দ্বিতীয় আপত্তিকর প্রশ্নটা না করে পারে না ও, ‘আপনার ছেলে কি দেশের বাইরে তখন? কোন দিক বেছে নিয়েছিল সে?’ হাল্কা হাসলেন কর্ণেল, ‘সে কোনদিক বেছে নিয়েছিল সেটা আসলে গুরুত্ব রাখে না। বড় কথা হল, আমার স্ত্রী তার জন্মদিনেই মার্ডার্ড হল। খুনীকে ধরা সম্ভব হয় নি – আমার অবস্থান থেকে যত প্রকার চাপ দেওয়া সম্ভব আমি স্থানীয় প্রশাসনকে দিয়েছি। তারা খুনীর টিকি পর্যন্ত বের করতে পারে নি।’ পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে রিফাতও, পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে কিনে নিয়েছে। ধোঁয়া ছাড়ে ও গল গল করে। ‘তারপরই আর্মি থেকে বেড়িয়ে পড়লেন আপনি?’ কাঁধ ঝাঁকালেন তিনি, ‘ডিভোর্সের পর এমনিতেই মন ভেঙে গেছিল। তারপর ওর এই -’, কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন তিনি, ‘আসলে কোন কাজে মন টেকানো আর সম্ভব না আমার পক্ষে।’ থমথমে মুখে মাথা দোলায় রিফাত, ‘এই এলাকাতে আপনার পরিচিতি আছে। স্ত্রীর মৃত্যুর পর সে যে ফ্ল্যাটে থাকত, তাতেই উঠে পড়লেন?’ সায় দিলেন ভদ্রলোক, ‘নিজের সক্রিয় না থাকলেও সিরিয়াল কিলারের ব্যাপারে যে কোন আপডেট জানতে পারতাম আমি। স্পটে থাকলে সুবিধে হবে বলে ভেবেছিলাম। বাট নো ক্লু সো ফার!’ মৃতা স্ত্রীর জন্য সামনে জবুথবু হয়ে বসে থাকা প্রৌঢ়টি জমিয়ে রেখেছে একবুক ভালোবাসা। প্রথমবারের মত সেটা উপলব্ধি করতে পারে রিফাত। তার দিকে খেয়াল নেই এখন কর্ণেলের। চুপচাপ একের পর এক টান দিয়ে যাচ্ছেন সিগারেটের পেছন দিকে। ‘একজন মানুষের সাথে আমার দেখা হয়েছিল গতকাল।’, হঠাৎ মনে পড়তে বলে রিফাত, ‘সে বলেছিল তার বন্ধুও জবাই হয়ে গেছিল ও গলিতে। তার সাথে কথা বলে আসা যেতে পারে। কি বলেন?’ ‘স্রেফ চাপা মেরেছে হারামজাদা।’, সংক্ষিপ্ত জবাব দিলেন তিনি। ‘কিভাবে বুঝলেন?’ ‘নলা পাগলার সাথে দেখা হয়েছে আপনার। এলাকার সবাই ওকে চেনে। এই গলির বাসিন্দা না ও। তার কোন বন্ধুবান্ধবও আছে বলে শুনেনি কেউ।’ ‘ওহ!’, অস্ফুট কণ্ঠে বলল রিফাত। ধীরে ধীরে মাথা তুলে তাকালেন কর্ণেল, তবে রিফাতের দিকে নয়। কনফারেন্স রুমের দরজা ঠেলে এই মাত্র ভেতরে ঢুকে পড়েছেন একজন মানুষ। সামনে এসে একহাত বাড়িয়ে দেন তিনি। ‘আপনি নিশ্চয় কর্ণেল রাজীব? ইট’স আ প্লেজার স্যার। আমি এ থানার ওসি। শায়ান শিকদার।’ হাত মেলালেন কর্ণেল, ‘অবসরপ্রাপ্ত।’ একটু হাসলেন ওসি, ‘আর উনি?’ রিফাতের দিকে তাকান রাজীব, ‘উনি আমার প্রতিবেশী। কেসটার ব্যাপারে আগ্রহ আছে। তাই সঙ্গে এলেন।’ আগ্রহ উবে গেল ওসি সাহেবের। নাক সামান্য কুঁচকে বললেন, ‘ও আচ্ছা। আপনাকে একটা জিনিস দেখাতে চাইছিলাম। সম্ভবতঃ আপনার এরই মধ্যে তা জানা। তবুও …’ ওসির ইতস্তত দেখে হাসলেন কর্ণেলও, ‘উনার সামনেই দেখাতে পারেন। সমস্যা নেই।’ ‘পাশের রুমে আসবেন কি কষ্ট করে?’ পাশের ঘরটাতে এই সকাল বেলাতেও বেশ ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়। নতুন হওয়া মার্ডারটা নিয়ে পড়েছে সবাই। পুলিশ ছাড়াও সাদা পোশাকের লোকজন আছে কিছু। সম্ভবতঃ এসএসের লোক তারা। দেওয়ালের একপাশে টাঙ্গানো হয়েছে শুধু সেই গলিটার স্ট্রিট ডিজাইন। কোন বাড়িটা কেমন জায়গা নিয়েছে, কেমন ধরনের সামনের অংশ তাদের আছে, কোন বাড়ির প্রাচীরের পুরুত্ব কতটুকু – সবকিছু ঠিকভাবে উঠিয়ে ফেলা হয়েছে ম্যাপে। ‘কিছু বুঝতে পারলেন?’, ওসির প্রশ্ন। ‘খুনগুলো হচ্ছে গলির নির্দিষ্ট একটা অংশে।’ সেদিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মন্তব্য করেন কর্ণেল। ‘এক্স্যাক্টলি!’, জ্বলজ্বলে চোখে তাকিয়ে বললেন ওসি। ‘আমাদের বাড়িটা থেকে তিন বাড়ি রেডিয়াস নিলে মার্ডার জোনটা পাওয়া যাবে।’, টোকা দিলেন কর্ণেল ম্যাপে, ‘এখানে মারা গেছিল গতকালের ভিকটিম। তার আগের বারের ভিক্টিমের ডেডবডি পাওয়া গেছে আমাদের বাড়ির এক বাসা পরেই। তার আগের ভিকটিম মারা গেছে আমাদের বাড়ির সামনে। আর এখানে মারা পড়েছিল আমার স্ত্রী -’ কথা থেমে যায় ভদ্রলোকের। তার দিকে তাকিয়ে থাকেন ওসি। চোখে সহানুভূতির ছাপ। এর ফাঁকে আস্তে করে বের হয়ে যায় রিফাত। চার ব্যস্ত একটা দিন শেষে বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেল রিফাতের। সকালে উঠেই থানাতে দৌড়াতে হয়েছিল। তারপর আরও চার পাঁচ জায়গাতে ছোটাছুটি করতে হয়েছে ওকে। একটা বিষয় মনের মাঝে খচ খচ করছিল। সেটা পরিষ্কার না করে স্বস্তি পাচ্ছিল না। মাথা থেকে কেন জানি ও গতকাল রাস্তার মাঝে দেখা হওয়া অদ্ভুত সেই লোকটাকে ভুলতে পারছে না। লোকটার কথার ভঙ্গিতে কিছু একটা ছিল। সবাই তাকে নলা পাগলা বলে, তা বেশ। কিন্তু তার কথাতে পাগলামির ছাপ পায় নি রিফাত। অন্য কিছু ছিল সেখানে। কেন যেন মনে হয়েছে সে শোনা কথার চেয়েও বেশি জানে। এলাকা থেকে সাবধান হতে বলেছিল সে গায়ে পড়ে, অথচ তাকে এ গলিতে কেউ দেখেছে বলে মনে হয় না। দূর থেকে বাড়িটাকে দেখে আজ চমকে ওঠে রিফাত। মাত্র একমাস ধরে থাকে ও এ বাড়িটায়। তবে এক মাস অল্প সময় না একেবারে। এর মাঝে একটা নতুন জায়গার মাঝে বাসা-বাসা জাতীয় গন্ধ চলে আসে। কিন্তু এ বিল্ডিংটার ক্ষেত্রে তা আসে নি। বরং এখান থেকে অশুভ একটা চিহ্নের মত মনে হয় বাড়িটাকে। এ বাড়ির আশে পাশেই ঘটেছে হত্যাকাণ্ডগুলো। খুনী শুধু এই গলিতেই থাকে না। থাকে এই বাড়ির কাছেই। অথবা এ বাড়ির ভেতরেই! সিঁড়িঘরটা অন্ধকার। সুইচ চেপে লাইট জ্বালানোর চেষ্টা করে লাভ হল না। ফিউজ হয়ে যাওয়ার প্রশ্ন আসে না। এনার্জি বাল্ব লাগানো ছিল এখানে। দোতলাতে উঠেও যখন লাইট জ্বললো না, সতর্ক হওয়ার তাগিদ অনুভব করে রিফাত মনে মনে। কেউ খুলে নিয়েছে? তিনতলাতে উঠতে উঠতে পকেট হাতড়ে নিজের ফ্ল্যাটের চাবিটা বের করে ও। এখানেও আলো নেই। কর্ণেলের ঘরের দরজার ফাঁক থেকে জোরে জোরে শোনা যাচ্ছে পোয়েটস অফ দ্য ফলের ‘কার্নিভাল অফ রাস্ট’। ভদ্রলোকের রুচিবোধ প্রশংসনীয়। বেদনাতুর সুর রিফাতের মনটাকেও আর্দ্র করে তোলে। খট শব্দ করে তালাটা খুলে যায় পরক্ষণেই। ঘরের ভেতর ঢুকে প্রথমেই দরজাটা বন্ধ করে দেয় ও। তারপর সুইচবোর্ড খুঁজে জ্বালায় লাইট। চোখ ধাঁধানো আলোতে ভরে যায় ঘর। অনেকক্ষণ অন্ধকারে ছিল বলে এমন লাগছে। কাঁধ থেকে ব্যাগটা একপাশে ফেলে বেডরুমের দিকে এগিয়ে যায় ও। আজকের জন্য যথেষ্ট হয়েছে। আগামীকাল বের হতে হবে আবারও। বেডরুমের আলো জ্বালিয়ে অবশ্য নিজের জায়গাতেই থমকে যায় রিফাত। বিছানার ওপর একজন মানুষ বসে আছে। তার হাতের পিস্তলটা সরাসরি তাকিয়ে আছে রিফাতের বুকের দিকে। অনড়। পিস্তলের বোঁচা নাকটা যদি থমথমে হয়ে থাকে, ওটার মালিকের মুখকে তুলনা করা যেতে পারে তার স্কয়ারের সাথে। স্বভাবসুলভ সারল্য উধাও এখন কর্ণেল রাজীব হোসেনের মুখ থেকে। মৃদু গলাতে তিনি শুধু বললেন, ‘বসে পড়।’ পাঁচ বসল না রিফাত। দেওয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়ায় ও। দুই সেকেন্ড স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকে কর্ণেলের চোখের দিকে। পিস্তলটাকে সামান্য পাত্তাও যেন দিচ্ছে না এখন। ‘নিজের দুষ্কর্মের প্রায়শ্চিত্ত আমাকে দিয়ে করতে চাইছেন?’, এক পা এগিয়ে এসে জানতে চায় রিফাত। ‘নিজের দুষ্কর্ম?’, আকাশ থেকে পড়লেন কর্ণেল। ‘অবশ্যই। গতকাল আচমকা আমাকে ডেকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে গেছিলেন কেন?’ অবাক হয়ে যাওয়া চাহনিটা সরে না কর্ণেলের মুখ থেকে, ‘আমি তোমাকে বলেছি, ছেলে। আমার স্ত্রীর মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গতকাল। ওই দিনটা বেসামাল পান করি আমি। আর একা পান করে স্বস্তি পাই না।’ হেসেই ফেলে রিফাত, ‘বেসামাল? আরে মাতাল তো হয়েছিলাম আমি। আর আপনি তো সকালে ফিটফাট বাবু সাহেব! জামাটা পর্যন্ত পাল্টে ফেলেছিলেন!’ কাঁধ ঝাঁকালেন কর্ণেল, ‘তো?’ রিফাতের মুখ থেকে হাসি সরে না, ‘যাকগে, বলেছিলেন – স্ত্রীর মৃত্যুর পর চাকরি ছেড়েছিলেন আপনি?’ দুই পাশে মাথা নাড়েন কর্ণেল, ‘তা বলিনি। বলেছিলাম ডিভোর্সের পরে আমি চাকরি ছাড়ি।’ ‘আমার স্পষ্ট মনে আছে, আপনি বলেছিলেন স্ত্রীর মৃত্যুর পর অতিরিক্ত হয়ে গেছিল চাপটা আপনার জন্য। তখনই ছেড়েছিলেন চাকরি।’, গোঁ ধরা শিশুর মত বলে রিফাত। ‘তা আমি কেন বলতে যাব?’, যারপরনাই আশ্চর্য বলে মনে হয় এখন কর্ণেলকে। এবার বসে পড়ে রিফাত, সামনে পেতে রাখা চেয়ারটাতে। কর্ণেলের দিক থেকে চোখ সরায় না, যেমনটা সরে নি কর্ণেলের পিস্তল। ‘কেন আপনাদের ডিভোর্স হয়েছিল তা আপনি আমাকে বলেন নি।’ ‘ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ। না বললে কি আসে যায়?’, পিস্তলে চেপে বসে কর্ণেলের হাতটা। ‘অনেক কিছুই আসে যায়। আপনার স্ত্রী এ বাড়ির তৃতীয় তলার ভাড়াটের সাথে চুটিয়ে প্রেম করছিলেন। তারপরই আপনাকে ডিভোর্স দেন তিনি, এবং উঠে আসেন এ বাড়িতে।’ কর্ণেলের চেহারাতে এখন মেঘ জমেছে, তবুও বলে চলে রিফাত। ‘খোঁজ নিয়ে দেখলেন আপনি। প্রেমিক ভাড়াটে আপনার স্ত্রীর চেয়ে বছর তিনেকের ছোটই হবে বয়েসে। অবিবাহিত। মজেছে আপনার স্ত্রীর প্রতি ভালই। ওরা লিভ টুগেদার করে না, তবে একই বাড়িতে থাকার সুবিধার্থে আনুষ্ঠানিকভাবে লিভ টুগেদারের প্রয়োজনও পড়ে না। তথ্যগুলো আপনার মাথাতে আগুন ধরিয়ে দিল।’ কর্ণেল এবারও কিছু বললেন না। ‘জন্মদিনটা কাছিয়ে এল।’, থামে না রিফাত, ‘আর আপনি সাজিয়ে ধরলেন জন্মদিনের উপহার। স্ত্রীর জন্য। অথবা প্রাক্তন স্ত্রীর জন্য।’ ‘শাট আপ!’, প্রায় গর্জে ওঠেন কর্ণেল। ‘গলির কাছে অপেক্ষা করছিলেন আপনি কান পর্যন্ত ঢেকে। তারপর কাছে স্ত্রীকে পেতেই চাকু মেরে দিলেন।’, মুচকি হাসে রিফাত, যেন মজার কোন ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছে, ‘আর্মিতে ছিলেন। কোথায় চাকু মারতে হবে, কতটুকু মারতে হবে – তা আপনার চেয়ে ভাল আর কে জানে?’ আচমকা ঠাণ্ডা হয়ে গেলেন কর্ণেল, ‘বেশ! আমাকে তাহলে ডিসেম্বর টুয়েন্টি-ফাইভ কিলার হিসেবে তুমি অভিযুক্ত করছ?’ তাঁর চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে আছে রিফাত এখনও, ‘আপনার মাথাতে গোবর ঠাসা না থাকলে সেটা এতক্ষণে বুঝে নিয়েছেন।’ ‘দারুণ অভিযোগ যা হোক।’, কর্ণেলকে মোটেও বিচলিত হতে দেখা গেল না, ‘কালকের খুনটার ব্যাখ্যা কি করবে তাহলে? আমার সাথেই ছিলে তুমি।’ ‘মাতাল আমি হয়েছিলাম। আপনি নন।’, শুরু করে রিফাত, ‘এই ফাঁকে আপনি উঠে গেছিলেন। বাইরে ওঁত পেতে ছিলেন – তা বলব না। আপনি এসএসের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন আগে থেকেই। জানতেন অপারেটিভ একজন থাকবে। বেড়িয়ে তার দিকে সরাসরি এগিয়ে গেছেন আপনি, কথা বলেছেন। অপারেটিভ আপনার ব্যাপারে জানে, কাজেই অরক্ষিত হয়ে এগিয়ে এসেছিল সে। আর ফেঁড়ে ফেলেছেন।’ ফেঁড়ে ফেলার অভিযোগেও বিন্দুমাত্র বিচলিত হতে দেখা গেল না তাঁকে, ‘বেশ – তাহলে আমার শরীরে রক্তের ছিটে থাকার কথা তো ছিল। তাই না?’ ‘সেজন্যই তো কাপড় পাল্টেছেন।’, দমে যায় না রিফাত। ‘তোমাকে ঘরে কেন ডাকব আমি? যদি আমারই হয়ে থাকে খুনের নেশাটা?’ ‘অ্যালিবাই। আমি পরে সাক্ষী হতে পারব – আপনি সারারাত আমার সাথেই ছিলেন, এটা আমি বলতে পারতাম। সেজন্যই আমাকে ডেকে এনেছিলেন।’ ‘কোনটাই গুরুতর কোন প্রমাণ না।’, ঠোঁট উল্টে বললেন কর্ণেল। ‘আমাদের কিছু কথা মনে করিয়ে দেই আপনাকে তাহলে।’, রিফাতের মুখে আবারও ফিরে এসেছে একটা রহস্যময় হাসি, ‘থানাতে আমি বলেছিলাম, “এই এলাকাতে আপনার পরিচিতি আছে। স্ত্রীর মৃত্যুর পর সে যে ফ্ল্যাটে থাকত, তাতেই উঠে পড়লেন?” আপনি বলেছিলেন, “নিজের সক্রিয় না থাকলেও সিরিয়াল কিলারের ব্যাপারে যে কোন আপডেট জানতে পারতাম আমি। স্পটে থাকলে সুবিধে হবে বলে ভেবেছিলাম। বাট নো ক্লু সো ফার!”’ ‘তো?’, ধরতে পারলেন না কর্ণেল। কাঁধ ঝাঁকায় রিফাত, ‘না, তেমন কিছু না। তবে আপনার স্ত্রীর মৃত্যুর পর সিরিয়াল কিলিং বলে কিছু ছিল না। আপনার স্ত্রীই প্রথম ভিকটিম। এর পরের খুনগুলো হওয়ার পর সিরিয়াল কিলারের প্রসঙ্গ উঠতে পারত। কিন্তু আমরা দেখলাম, আপনি তার মাঝেই স্ত্রীর ফ্ল্যাটে উঠে পড়েছেন, আপনার তথাকথিত ‘সিরিয়াল কিলিং’ রহস্য সমাধান করতে! স্ত্রীকে খুন করেই আপনার রক্ত পিপাসা মিটল না, প্রতি ২৫শে ডিসেম্বর খুন করতে থাকলেন একের পর এক শিকারকে।’ থমকে গেছেন কর্ণেল। রিফাত আরও যোগ করে, ‘আজ সারাদিন ছোটাছুটি করতে হয়েছে আমাকে। আপনার ইতিহাস জানার জন্য। আর্মিতে আমারও পরিচিত লোক আছে, স্যার। তাঁর মাধ্যমে আপনার অতীতের সাথে বর্তমানও জেনেছি। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর আপনার আগ্নেয়াস্ত্রটি রেখে দেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।’ চমকে ওঠেন কর্ণেল, পিস্তলের নলটা সরে যায় সামান্য। রিফাত শেষ পেরেকটা পুঁতে দেয় কফিনে, ‘আর আমাদের গতকালের হতভাগ্য এসএস এজেন্টের কাছ থেকে খুনী শুধু পিস্তলটাই সরিয়েছিল। তাই না?’ ছয় সামান্য নড়ে উঠেছিলেন কর্ণেল সব কথা শুনে। তারপর আবার মুখভঙ্গি স্বাভাবিক হয়ে গেছে তাঁর। পিস্তলটা সরিয়ে কোমরের কাছে গুঁজে রাখলেন তিনি। ‘তোমার সোর্স – আর্মির মাঝে যে আছে, সে তোমার সাথে অন্তত পাঁচ বছর পর আজ প্রথম দেখা করেছে। তাই না?’ ভ্রু কুঁচকে যায় রিফাতের, ‘আপনি আমার পিছু নিয়েছিলেন?’ মাথা নাড়েন কর্ণেল, ‘তার কোন প্রয়োজন দেখি না। যেহেতু সে তোমাকে তোমার ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে কিছুই বলেনি। সেই সাথে আমার স্ত্রীর ব্যাপারে গড় গড় করে সব বলে গেছে – কাজেই সেটা আমি এমনিতেই বুঝতে পারছি।’ ‘কি বলতে চান?’, তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে রিফাতের কণ্ঠস্বর। ‘বলতে চাইছি, গতকাল রাতে আমি যদি মার্ডার সীনে ফিট করি, তুমিও ফিট কর। কারণ, পুরোটা সময় তুমি নকড আউট ছিলে না। বরং তোমার আগে আমিই টলে উঠেছিলাম গতকাল।’ স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকে এখন রিফাত। ‘আমার পৃথিবী দুলে উঠেছিল যখন তখন একবার মনে হয়েছে ঘরে আমি সম্পূর্ণ একা। সেসব সময়ের অনুভূতি আর স্মৃতির ব্যাপারে তুমি জান, কিছুই স্পষ্ট থাকে না। তাই আমি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারছি না। তবে আবার একটা সময় ফিরে এলে তুমি, হোঁচট খেলে আমার সাথে, দড়াম করে পড়লে আমার পাশেই। ওই ধাক্কাতেই বাস্তবে ফিরে আসলাম আমি।’ রিফাতের মুখ যেন আচমকাই সেলাই হয়ে গেছে। কর্ণেলের কথা কোনদিকে যাচ্ছে বোঝার চেষ্টা করছে সে আসলে। ‘তোমার হাতে আমি একটা ছোট গ্লাস দেখলাম। এখনও অক্ষত আছে সেটা দেখ অবাক না হয়ে পারি নি। যা হোক, তখনই প্রথম খেয়াল করি তোমার হাফহাতা টি-শার্টটা।’ চোখ কুঁচকে গেছে রিফাতের, ‘আপনার ঘরে ঢুকে আমার জ্যাকেট খুলে রেখেছিলাম আমি। তাতে কি?’ ‘আমি পড়ে যেতেই ঘর থেকে বেড়িয়ে ছুটেছ তুমি, তিন বাড়ি পর প্রাচীরের ওপর কোন কাটাতর বা কাঁচ নেই। ওটার একপাশে থেকে অপেক্ষা করেছ। আমাদের এসএসের অপারেটিভ অন্যপাশে আসতেই তার পেছনে ঝাঁপিয়ে পড়েছ তুমি, হার্ট বরাবর ছুরি চালিয়েছ তখনই।’ চোখ সামান্য বড় হয় রিফাতের, তখনও বলে চলেছেন কর্ণেল, ‘পেছন থেকে ভিক্টিমের পেট চিরেছ তারপর। এজন্য তোমার বুকে এক ফোঁটা রক্তও লাগে নি। দুই হাতের কনুইয়ের মাঝে যা লেগেছিল, তা ধুয়ে ফেলেছ নিজের ফ্ল্যাটে ঢুকে হয়ত। তারপর আরও কয়েকটা শট মেরে সত্যিকারের মাতাল হয়ে পড়েছিলে। হয়ত ভুলেও গেছ সব। অথবা, এখন করছ অভিনয়।’ ‘গল্পটাতে ফাঁক আছে।’, একটু হাসে রিফাত, ‘আপনার ফ্ল্যাট থেকে একবার বেড়িয়ে গেলে ঢুকলাম কি করে আবার? চাবি তো আমার কাছে ছিল না।’ মাথা নাড়লেন কর্ণেল, ‘তার প্রয়োজনও তো দেখি না। বের হওয়ার সময় দরজা লাগিয়ে যাওনি তুমি। সামান্য ফাঁকা করেই বেড়িয়ে পড়েছিলে।’ ‘কাজটা আমি কেন করব?’, থমথমে গলাতে প্রশ্ন করে রিফাত। একটা সেকেন্ড চুপ হয়ে থাকলেন কর্ণেল, তারপর দেন জবাবটা, ‘কারণ, আমার স্ত্রীর বয়ফ্রেন্ড ছিলে তুমি। অ্যাকসিডেন্টে তোমার প্রেমিকা মারা গেল ২৫শে ডিসেম্বর – বিষয়টা মেনে নিতে পারলে না। তোমার সাথে আমার স্ত্রীর পরিচয় হয়েছিল কবে জানো? ঠিক পাঁচ বছর আগে। আরেক ২৫শে ডিসেম্বর। তার এক মাস আগে এ বাড়িতে উঠেছিলে তুমি। নভেম্বরে।’ ‘বাহ। আমার মনে থাকত তাহলে।’, কাঁধ ঝাঁকায় রিফাত। ‘জিনিয়া যখন মারা গেল, তুমি আটকে গেলে সেই সময়টাতে।’, কর্ণেল যেন শুনলেনই না ওর কথা, ‘প্রতি নভেম্বরে এ বাড়িতে ফিরে আসো তুমি, তারপর ডিসেম্বরটা থেকে চলে যাও আবারও। ২৫ তারিখ এলে জিনিয়ার সাথে আর দেখা হয় না তোমার – সে আক্রোশে একটা করে খুন কর তুমি। এখনও বিশ্বাস করতে পার না জিনিয়া নেই। প্রতি নভেম্বরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে ফিরে আসো এলাকাতে।’ ‘আপনার গল্প সম্পূর্ণই গাঁজাখুরি। তবে যদি সত্যও হয়ে থাকত, তাহলে গতকাল আপনি আমাকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়েছেন এ কারণেই। প্রমাণ সহ আমাকে গ্রেফতার করার ইচ্ছে মনে হয় আপনার ছিল। সেই সাথে আপনি চেয়েছিলেন এবারের মার্ডারটা ঠেকাতে। কেন ঠেকালেন না?’ ঠোঁট বাঁকান কর্ণেল, ‘তোমাকে টলাতে নিজেকেও আদিওস মাদারফাকার গিলতে হয়েছিল আমার। ধরে গেল তাড়াতাড়ি। ভুল করে ফেলেছি অবশ্যই। তবে সবাইকে আপনি করে ডাকতে আমি অভ্যস্ত। তবে অপরাধীকে না। একারণে, তোমার ক্ষেত্রে সম্বোধন পাল্টে ফেলেছি আগেই।’ ‘তারমানে, আপনার গল্প অনুযায়ী, খুনটা আমার করা। সেক্ষেত্রে, আপনার হাতে ভিক্টিমের অস্ত্র কেন?’ এক সেকেন্ডও না নিয়ে প্রশ্নটার উত্তর দেন কর্ণেল, ‘তোমাকে আমার সাথে হোঁচট খেয়ে পড়তে দেখেই নিচটা ঘুরে এসেছিলাম। লাশটা পেয়েছি, পিস্তলটা তখনই খুলে নিয়ে ফিরে আসি আমি। তোমার সাথে এক ছাতের তলে থাকব, তাও নিরস্ত্র? এতটা সাহসী আমি নই, রিফাত।’ ‘আপনার কথা অনুযায়ী আমি স্মৃতিভ্রষ্ট একজন মানুষ।’, একটু হাসে রিফাত, কথাটা বেশ কৌতুককর লেগেছে ওর কাছে, ‘অথচ আমার প্রতিটা দিনের কথাই মনে আছে। জিনিয়া নামটা চেনা চেনা লাগছে বটে, তবে ওই নামে কাওকে আমি চিনি না।’ মৃদু হাসেন কর্ণেল, ‘তোমার বয়স এখন কত?’ ‘ছাব্বিশ। কেন?’, বিহ্বল দেখায় রিফাতকে। ‘উঁহু, একত্রিশ।’, শুধরে দেন কর্ণেল, ‘তুমি আটকে গেছ পাঁচ বছর আগের একটা সময়ের ফাঁকে। তোমার জন্মসাল থেকে আজকের বছর গুণেই দেখো।’ কর্ণেলকে বদ্ধ পাগল মনে হয় রিফাতের। ব্যস্ত চোখ ঘুরে আসে রুমের ওপর দিয়ে। নতুন কেনা প্যারিস টাওয়ারের প্রতিমূর্তিটা কাঁচের। ওপরের দিকটা যথেষ্ট চোখা। একবার আঘাত করে খুনীটাকে ধরে ফেলতে হবে। কিন্তু সে সুযোগ কি পাবে রিফাত? একটাই আশার আলো দেখে ও, কর্ণেল পিস্তলটা কোমরে গুঁজেছেন। ‘আমি যদি সময়ের ফাঁকে আটকে পড়িও -’, এক পা সরে রিফাত, ‘-তবুও প্রমাণ হয় না খুনগুলো আমি করেছি।’ ‘প্রমাণ করে দেবে ফরেনসিক। তোমার হাতে এখনও রক্তের হাল্কা দাগ থেকে যাওয়ার কথা – ব্লিচিং পাওডার ব্যবহার করেছ বলে মনে হয় না -’ আচমকা লাফিয়ে সামনে বাড়ে রিফাত। এক হাতে তুলে নিয়েছে কাচের প্যারিস টাওয়ার। খুনী কর্ণেলকে আটকাতে সে বদ্ধপরিকর। ঝট করে পিস্তলটা বের করে ফেলেছেন কর্ণেলও। একজন সিরিয়াল কিলার ঝাঁপ দিচ্ছে তার এম.ও. অনুযায়ী চোখা অস্ত্রের দিকে। তীব্র আতঙ্ক মেরুদণ্ড থেকে উঠে ঘাড় পর্যন্ত শীতল করে দেয় তাঁর। চোখের পলকে ট্রিগার টেনে ধরেন তিনি। এক। দুই। তিন। চার। পাঁচবার। ছিটকে দেওয়ালে পড়ে সেখানেই গুলির আঘাতে কিছুক্ষণ সেঁটে থাকে রিফাতের মৃতদেহটা। তারপর নেমে আসে পিছলে। অবসন্ন একটা ভঙ্গিতে। প্রায় সাথে সাথেই প্রচণ্ড এক লাথিতে উড়ে যায় রিফাতের দরজার নব। হুড়মুড় করে ঢুকে পড়লেন ওসি শায়ান শিকদার। অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন কর্ণেলের দিকে। হাতে ধরা পিস্তলটা তুলে ধরেছেন তাঁরই দিকে। ‘আমি ভেবেছিলাম পেছনে আছে এই রিফাত লোকটা। ওকে রেইড দিতেই আমাদের আসা। কিন্তু আপনার কাছে এটা আশা করিনি আমি, সত্যি।’, বেদনাতুর চেহারা নিয়ে বলেন ওসি। ‘খুনগুলো করেছিল এই রিফাতই -’, মৃদুগলাতে বলার চেষ্টা করেন কর্ণেল, প্রায় সাথে সাথে হাতকড়া পড়িয়ে দেন ওসি, ‘আপনার হাতে এভিডেন্সের পিস্তল গেল কি করে, কর্ণেল?’ কর্ণেল আর কিছু বলতে পারেন না। আর কিছু বলার নেই তাঁর। এখন শুধু সাক্ষ্য আর প্রমাণ কথা বলবে। পরিশিষ্ট ২৫শে ডিসেম্বর, ২০১৫। আড়ালে আড়ালে এগিয়ে আসছে একজন মানুষ। অন্ধকার এক গলির ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটি। বয়ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছে বাড়ি পালিয়ে। খুনী ব্যাটাকে ধরে ফেলার পর থেকে গলিটা নিরাপদ। পকেট থেকে ফোল্ডিং নাইফটা বের করে ফেলে অন্ধকারের মানুষটা। ষষ্ঠবারের মত এর ব্যবহার হতে যাচ্ছে। ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ুয়া মেয়েটির ওপর এর ঠিক আধ মিনিটের মাথাতেই ঝাঁপিয়ে পড়ল নলা পাগলা। ক্রাইম গল্প
দ্য বিগেস্ট ডিল Posted on October 24, 2023 মেয়েটা পাঁচ ফিট ছয়। বড় বড় চোখদুটো সাথে কপালে এসে পড়া চুলগুলোতে একেবারে রাজকন্যার মত লাগছে। ‘টাকা আর আভিজাত্যের সাথে সৌন্দর্যের সম্পর্ক কোথায় কে জানে’- মনে মনে ভাবলাম। দার্শনিকতার সময় কিংবা সুযোগ অবশ্য ছিল না। ইটস শো টাইম। Read More
ত্রাণকর্তা Posted on November 25, 2014November 25, 2022 কাঁধের কাছে ভরাট একটা কন্ঠ শুনতে পায় এই সময়। ‘এখানে কোন সমস্যা?’ Read More
হিমানন্দ Posted on December 2, 2013June 15, 2022 লাশটার দিকে কিছুক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রাফা। বিশ্বাসঘাতকটাকে দেখে ওর ভেতরে কোন অনুভূতি আসার কথা না। আসেওনি। কিচেন নাইফটা বুকে আমূল ঢুকিয়ে দিতেই ধড়মড় করে পড়ে গেল শিশির। হাত বাড়িয়ে কিছু একটা ধরতে চাইছিল বোধহয়। প্রবল ঘৃণায় এক পা পিছিয়ে এসেছিল রাফা। Read More